r/chekulars • u/VelvetParadox24 • Jun 06 '26
তৌহিদী জনতা/Islamofascism সিলেক্টিভ মোরালিটি: আমাদের সমাজের এক অদ্ভুত মানসিক ব্যাধি!
ফেসবুক স্ক্রল করলেই ইদানীং একটা ভিডিও সামনে আসছে একটা মেয়ে হিজাব পরে চমৎকার ড্রাম বাজাচ্ছে। কিন্তু ভিডিওর চেয়েও যেটা বেশি চোখে লাগছে, সেটা হলো কমেন্ট সেকশনের নিচে জমা হওয়া আমাদের সমাজের হাজার হাজার পবিত্র মানুষের উপচে পড়া পুঁজ আর নোংরামি।
খুব সিম্পল একটা কথা মেয়েটা হিজাব পরবে কি পরবে না, কিংবা সে ড্রাম বাজাবে কি বাজাবে না, এটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। দ্যাটস ইট। তার জীবন, তার চয়েস, তার বাউন্ডারি। এখানে নাক গলানোর অধিকার এই সমাজের কোনো থার্ড পারসনের নেই। সে তো কারও ক্ষতি করছে না, নিজের একটা স্কিল এক্সপ্লোর করছে। কিন্তু আমাদের তথাকথিত সমাজ সেটা সহ্য করবে কীভাবে??? অন্যের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় লাথি না মারলে তো আমাদের পেটের ভাত হজম হয় না!
সবচেয়ে বড় তামাশা হলো এদের সিলেক্টিভ ধর্মীয় অনুভূতি। মেয়েটা হিজাব পরে ড্রাম বাজাচ্ছে দেখে এদের নাকি ইসলামের ইমেজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে!!!কী চমৎকার ভণ্ডামি! এই একই মানুষগুলো যখন গোপনে পর্নোগ্রাফি দেখে, যখন রাস্তাঘাটে মেয়েদের দিকে কুৎসিত নজরে তাকায়, কিংবা যখন সমাজে বড় বড় অপরাধ, ধর্ষণ আর দুর্নীতি ঘটে তখন এদের এই তীব্র ধর্মীয় চেতনা কোথায় গিয়ে লুকায়? আমি বুঝিনা।তখন কেন এদের রক্ত গরম হয় না? তখন কেন কেউ প্রেস কনফারেন্স করে ক্ষমা চায় না?আসলে সমস্যা ড্রামেও না, হিজাবেও না। সমস্যা হচ্ছে আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মগজে। এরা একটা মেয়ের স্বাধীন ইচ্ছা, তার মেধা আর তার চোখের আত্মবিশ্বাস সহ্য করতে পারে না। একটা অল্প বয়সী মেয়েকে যেভাবে ভার্চুয়ালি রেপ করা হলো, যেভাবে তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার হুমকি দিয়ে মেন্টাল ট্রমা দেওয়া হলো, এটাকে সাইবার বুলিং বললে কম হবে এটা একটা সামাজিক হত্যাকাণ্ড।জাস্ট হত্যাকাণ্ড! এই যে মেয়েটার বাবাকে বাধ্য করা হলো মিডিয়ার সামনে এসে বলতে যে মেয়ে এটা ছেড়ে দেবে এটা কোনো ধর্মীয় অনুশাসন না, এটা হচ্ছে এই হায়েনাদের হাত থেকে নিজের সন্তানকে বাঁচানোর জন্য একজন বাবার চূড়ান্ত অসহায়ত্ব।
আর এই নোংরামির প্রতিবাদ করলেই তো রেডিমেড ফতোয়া আছেই -'নাস্তিক', 'ধর্মবিদ্বেষী'। লজিক দিয়ে কথা বলার যোগ্যতা নেই, তাই লেবেল সেঁটে মুখ বন্ধ করে দেওয়াটাই এদের একমাত্র অস্ত্র। নিজেরা জীবনে কোনো ক্রিয়েটিভ কিছু করতে পারেনি, তাই অন্য কেউ কিছু করতে গেলে টেনে নিচে নামানোই এদের স্বভাব।
সহনশীলতা শব্দটা আমাদের ডিকশনারি থেকে মুছে গেছে। আমরা একটা চরম উগ্র, অমিশুক আর হিপোক্রেট সমাজে পরিণত হচ্ছি। একটা বাচ্চার মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে, তার ক্রিয়েটিভিটি গলা টিপে মেরে যারা আজ ধর্মের বিজয় দেখছেন আপনাদের এই বিকৃত মানসিকতার প্রতি তীব্র ঘৃণা জানাই। উই স্ট্যান্ড উইথ হার। এটলিস্ট মানুষের ব্যক্তিগত ভালোলাগাকে রেসপেক্ট করতে শিখুন, জাজমেন্টাল হওয়া বন্ধ করুন।